একাদশ শ্রেণির ভর্তি ফি এবং অন্যান্য তথ্য

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের কলেজ ও মাদরাসাতে একাদশ শ্রেণির ভর্তি আগামী বছর এর জানুয়ারিতে শুরু হতে যাচ্ছে। প্রতিবারের মতো এবারও অনলাইনে ভর্তির জন্য আবেদন এবং মেধা তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। ডিসেম্বর এর শেষে দিকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে জানা যায়।  এরপর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। ইতোমধ্যেই একাদশে ভর্তি এর খসড়া নীতিমালা তৈরি করা আছে। আগামী সপ্তাহেই তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে বলে জানা যায় বিভিন্ন মাধ্যমে।

খসড়া নীতিমালাতে  দেখা যায়, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি এর ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবাসী ও বিকেএসপি কোটা বহাল আছে এবং অন্যান্য কোটা বাতিল করা হয়েছে। ভর্তিতে শুধু অনলাইনেই আবেদন করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ভর্তি নিশ্চয়ন ফি গত বছর এর মতো ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করতে প্রস্তাব করা আছে।  অর্থাৎ চূড়ান্ত তালিকায় নাম এলে একজন শিক্ষার্থীকে এর সমপরিমাণ টাকা দিতে হবে। চলতি সপ্তাহেজ দেশ এর সব শিক্ষাবোর্ড এর কলেজ পরিদর্শকদের এক সভায় খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নীতিমালায় দেখা গেছে, এবারও অনলাইনের মাধ্যমে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ কিংবা মাদরাসাতে আবেদন করার সুযোগ রাখা আছে। এজন্য নেয়া হবে ১৫০ টাকা। তবে মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে এসএমএস করে ভর্তির জন্য আবেদন করা হবে না।

শতভাগ মেধা কোটা ব্যতীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এর বিশেষ কোটা হিসেবে ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, বিকেএসপি ০.৫ এবং প্রবাসী ০.৫ শতাংশ কোটা বহাল রাখা আছে। এবার একাদশে ভর্তিতে বিভাগীয় ও জেলা সদর, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর অধস্তন দপ্তরসমূহ এর কোটা বাতিল করা হয়েছে।

এ বছর ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকাতে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ফি ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে এছাড়া ঢাকাতে মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত এবং এমপিওবিহীন প্রতিষ্ঠান এর বাংলা মাধ্যমে ভর্তি এর জন্য ৯ হাজার ও ইংরেজি মাধ্যম এর ভর্তি ফি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হবে বলে জানা যায়। তবে উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকা এর বেশি করা যাবে না, এটা সব প্রতিষ্ঠান এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায় এর ক্ষেত্রে রসিদ প্রদান এর নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।

মফস্বল ও পৌর এলাকা এর জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হচ্ছে ১ হাজার এবং পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা। এছাড়া ঢাকা ব্যতীত অন্যান্য মেট্রোপলিটন এলাকাতে তিন হাজার টাকা এর বেশি নেয়া যাবে না বলে খসড়ায় উল্লেখ করা হয়।

নীতিমালা অনুযায়ী, অনলাইন এ একাদশ শ্রেণির প্রথম ধাপ এর ভর্তি আবেদন আগামী ৮ থেকে ১৫ জানুয়ারি এর মধ্যে শুরুর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এক সপ্তাহ পর পর তিনটি ধাপে শিক্ষার্থীদের কাছে আবেদন নেওয়া হবে। অনলাইন আবেদন শেষে ফলাফল প্রতিটি শিক্ষাবোর্ড এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। তার সাথে নির্বাচিত আবেদনকারীর দেয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস সেন্ড করা হবে। অনলাইনে কিংবা সরাসরি কলেজে গিয়েও ভর্তির জন্য নিশ্চয়ন করার সুযোগ দেওয়া হবে।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা শিক্ষাবোর্ড এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ jago news জানান, এ বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নীতিমালায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। আগের বছর এর আলোকে অনলাইনভিত্তিক আবেদন ও একই পদ্ধতিতে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হবে। বুয়েট এর সহযোগিতায় একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এতে কোনো ধরনের ভুয়া আবেদন কিংবা জালিয়াতি করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি জানান, খসড়া নীতিমালায় বিভিন্ন কোটা তুলে দেয়ার প্রস্তাব করাসহ ভর্তি নিশ্চয়ন ফি ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়ম মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধ করতে হবে। এবং এসংক্রান্ত নীতিমালা আগামী সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয় থেকে এটি অনুমোদন পেলে পরে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ভর্তি আবেদন শুরু করা হবে।

Comment Here