একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম এবং কলেজ মাইগ্রেশন কি?

একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম এবং কলেজ মাইগ্রেশন কি?

মনে কর, তুমি ১০ টি কলেজে আবেদন করেছে!
তারপর তোমার ক্ষেত্রে ৯/৮/৭/৬/৫ এর মাঝে যে কোনো একটা কলেজ সিলেক্ট হয়েছ!

ধরি,তোমার ৮ নাম্বার কলেজটি এসেছে তাহলে ২য় বার এবং ৩য় বার মাইগ্রেশনে তোমাকে তারা ৮ নাম্বারের উপরে যে কলেজ গুলো রয়েছে ওইগুলো দেওয়ার চেষ্টা করবে কারণ Systematically তুমি ১ নাম্বার কলেজে পরতে ইচ্ছুক। যেমন ৮ নাম্বার কলেজের জন্য তুমি নির্বাচিত হলে, মাইগ্রেশনে তোমার ৭/৬/৫/৪/৩/২/১ যে কোনো একটা কলেজে দেওয়ার চেষ্টা করবে কিন্তু সেটা নির্ভর করবে কলেজের সিট সংখ্যার উপর।

বিজ্ঞাপন

মাইগ্রেশন সব সময় উপরের কলেজ গুলোতে হয় যেমন ৮ নাম্বারে চান্স পেলে তাহলে ৯/১০ বাদ হয়ে যাবে কাজ শুরু হয়ে যাবে তোমাকে ৭ নাম্বার কলেজে দেওয়ার জন্য যদি পর্যাপ্ত সিট থাকে তাহলে ৭ নাম্বার আসতে পারে ১ম মাইগ্রেশনে। এভাবে ৭ নাম্বারে পেলে ২য় মাইগ্রেশনে তারা চাইবে ৬ নাম্বার টাতে দেওয়া যায় কি না! এভাবেই উপরের দিকে উঠতে থাকবে সিট সংখ্যার ভিত্তিতে এবং তোমার রেজাল্টের ভিত্তিতে।

যদি রেজাল্ট বেশি ভালো না হয় যে কলেজে চান্স পেয়েছ তাতেই পড়তে হবে কারণ তোমার মাইগ্রেশনে কলেজ পরিবর্তন হবেনা।

মাইগ্রেশন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নোট

তুমি সর্বোচ্চ ১০টি এবং সর্বোনিম্ন ৫টি কলেজে আবেদন করতে পারবে।

➡ যে কোনো ছাত্র ছাত্রী সর্বোচ্চ ৩ বার আবেদন করতে পারবে। ৩ বারে টোটাল ২ বার মাইগ্রেশন হয়। শুধুমাত্র প্রথম বার কলেজ সিলেকশনের কাজ চলে।

➡ আবেদন করার পর ১ম পর্যায়ে রেজাল্ট দিবে তুমি কোন কলেজে সিলেক্ট হয়েছে। ১ম বারে মাইগ্রেশনের কোনো কাজ নেই।

তবে একটি কাজ রয়েছে সেটি হল তুৃমি কলেজে চান্স পাওয়ার পর কলেজ নিশ্চায়ন করতে হবে। যদি নিশ্চায়ন না কর তাহলে নতুন করে আবার আবেদন করতে হবে যদি নতুন করে আবেদন করো, তাহলে তোমার ২য় বার কোনো মাইগ্রেশন থাকবে না। আর যদি প্রথম বার নিশ্চায়ন কর কলেজ তাহলে ২য় বার থেকেই তোমার মাইগ্রেশন শুরু।
কলেজ নিশ্চায়ন করার জন্য 200 টাকা লাগে, আর নতুন করে ২য় পর্যায়ে আবেদন করতে ১৫০ টাকা লাগে।

মাইগ্রেশন নিয়ে সাধারণ প্রশ্নাবলি:

মাইগ্রেশনের জন্য কি কিছু চালু করতে হয়! নাকি নিজে থেকে নাকি নতুন করে কিছু করতে হয়?
☞ ১ম বার আবেদন করার পর যদি আবেদন নিশ্চায়ন করে থাক তাহলে অটোমাইগ্রেশন হতে থাকবে তোমার কিছু করা লাগবে না।
☞ যদি ২য় বারও কলেজ নিশ্চায়ন না করে নতুন করে আবেদন কর তাহলে মাইগ্রেশন বলতে কিছু থাকবে না।
☞ মাইগ্রেশনের কাজ হচ্ছে যারা প্রথম বার অথবা ২য় বার আবেদন করার পর কলেজ নিশ্চায়ন করেছে তাদের জন্য।

১। মাইগ্রেশন কি বন্ধ করা যায়?
➤ না মাইগ্রেশন বন্ধ করা যায় না।
২। আমি যদি ১ম কলেজটি পেয়ে যায় তাহলে কি মাইগ্রেশন হবে?
➤ না হবেনা।
৩। মাইগ্রেশন চলাকালীন সময়ে কি কলেজ চেন্জ করতে পারব?
➤না।
৪। মাইগ্রেশনে আমার পছন্দ মতো কলেজ আসে নি আমি কি পাল্টাতে পারব?
➤না পারবে না এটাতেই তোমাকে পড়তে হবে।

✔ যেহেতু মাইগ্রেশন উপরের দিকে হয় সুতারাং তুমি এমন ১০ /৫ টা কলেজ দিবা যেগুলার সবগুলাতে তোমার পড়াশুনার ইচ্ছে রয়েছে। বিশেষ করে ১,২,৩,৪ কলেজ গুলো আসার সম্ভবনা বেশি তবে নির্ভর করে তোমার রেজাল্ট এর উপরে।

৫। মাইগ্রেশনে কি সবার কলেজ চেন্জ হয়?
➤না মাইগ্রেশনে একদম কম কলেজ পরিবর্তন হয় যাদের ভাগ্য ভালো তাদের হয়। গড়ে হিসাব করে বলতে গেলে ৫০০ সিট হলে প্রায় ৩০/৪০ জনের মাইগ্রেশনে কলেজ চেন্জ হয়। তবে এমনটা যে হবেই তার কোনো গ্যারান্টি নেই।

মাইগ্রেশন এর গুরুত্বপূর্ণ নোট

  • প্রথম বার কলেজ নিশ্চায়ন করা ভালো নতুবা পরে ভালো কলেজ আসে না কারন সিট প্রথমেই মোটামোটি ৮০% ফিলাপ হয়ে যায়।
  • তোমার রেজাল্টের সাথে মিল রেখে কলেজ চয়েজ দিবে। যদি মনে কর তুমি ১০ টা কলেজ চয়েজ দিয়েছো একদম টপ গুলো বাট তোমার রেজাল্টে আসার সম্ভবনা একদম কম তাহলে এমনটাই বেশি হয় ১০ টা থেকে ১ টা ও আসে না। তাই বলব নিচে কয়েক্টা নিজে পড়ার উপযোগী নরমাল কলেজ ও রেখো নয়তো পরে নরমাল গুলা ও পাবে না।
  • প্রতিটি কলেজ দেওয়ার আগে কলেজ সম্পর্কে আগাম ধারণা রাখবে নয়তো আটকে যাবে।
  • যারা ২ বার আবেদন করেছো তাদের চয়েজ যেটাই আসছে কনফার্ম করে দেওয়া ভালো কারণ ৩য় বারে কলেজ আসে একদম স্বল্প সুতরাং বি কেয়ারফুল।
  • প্রথমে যে ৫/১০ টা কলেজ দিবে নরমাল হওক বা ট্পার হওক তোমার রুচি অনুযায়ী দিবা নয়তো বিপাকে পড়তে হবে। কারণ মাইগ্রেশন সবার হয় না আর ২য় ৩য় বারের বর্ণনা তো উপরে পড়েই নিলে।

Comment Here